সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উৎসবের আনন্দ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয় : জেলা প্রশাসক শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী রিয়াদের বিমানবন্দরে ১৫ দিনে ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথিরা শিশু পরিবারের শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করল লায়ন্স ক্লাব শান্তিগঞ্জে বশির উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা অস্ট্রেলিয়ার জুটিকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে রাঈদ-লিপটন ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৯০০ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে সুনামগঞ্জে ৪৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন পূজার ছুটিতে পর্যটকদের অপেক্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওর ১৫০ বছরের পুরোনো মূর্তি ও গহনা চুরি অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রব দুর্গাপূজায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দ্রুত আদায়ে নির্দেশ হাইকোর্টের নিউইয়র্কে হেনস্তার শিকার ড. মুহাম্মদ ইউনূস শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীকে ৬ টুকরো করে হত্যা, আসামি জিতেশের মৃত্যুদন্ড সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে আরও ছয় বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু চারলেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ সংস্কৃতি চর্চায় সুনামগঞ্জে ইনস্টিটিউট করা হবে : এমপি কয়ছর আহমদ

ঐতিহ্যের নৌকা শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
ঐতিহ্যের নৌকা শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন
হাওরাঞ্চলের জীবন-সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও অর্থনীতির সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। বিশেষ করে সুনামগঞ্জে বর্ষা এলেই নৌকাই হয়ে ওঠে মানুষের প্রধান বাহন। সেই প্রয়োজন পূরণে সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের শত শত কারিগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নৌকা নির্মাণ করে আসছেন। আজ এই গ্রাম শুধু একটি জনপদ নয়, বরং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রতি বছর প্রায় ২২ কোটি টাকার নৌকা উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে সচ্ছল নন। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঠের সংকট, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব এবং মহাজননির্ভর ব্যবসা তাদের লাভের বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে। ফলে যে শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, সেই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি কারিগররাই বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উন্নয়নের কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখনো প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। মাইজবাড়ির নৌকা শিল্প তার একটি বাস্তব উদাহরণ। সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা এবং দেশব্যাপী বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আরও বিকশিত হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আগ্রহী হবে, যা একটি ঐতিহ্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর চলমান উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। তবে প্রশিক্ষণ ও সীমিত ঋণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সময় এসেছে। প্রয়োজন নৌকা শিল্পকে সম্ভাবনাময় গ্রামীণ শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ, সহজ অর্থায়ন, কারিগরদের নিবন্ধন, সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাজারজাতকরণে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা। নৌকা কেবল একটি যানবাহন নয়; এটি হাওরাঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রতীক। এই শিল্প টিকে থাকলে যেমন হাজারো পরিবারের জীবিকা সুরক্ষিত হবে, তেমনি সংরক্ষিত হবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। তাই কোটি টাকার এই শিল্পকে শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, এর সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
উৎসবের আনন্দ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয় : জেলা প্রশাসক

উৎসবের আনন্দ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয় : জেলা প্রশাসক